আমি তখন ক্লাস থ্রিতে কি ফোরে পড়ি। স্কুল থেকে বাড়ি একটু দুরে হওয়ায় টিফিন পিরিয়ডে আমরা যারা বাড়ি যেতাম না তারা স্কুলের মাঠে অথবা রাস্তার অপর পাশেই সাধারণ পাঠাগারের মাঠে খেলতাম। সেই পাঠাগারের দোতলা ভবনের সামনের একপাশ থেকে দোতলার ছাদ পর্যন্ত উঠে গেছে অনেক পুরতান ও মোটা একটা শিউলি ফুলের লতা।
একদিন টিফিন পিরিয়ডে সেখানে খেলতে খেলতে আমার মাথায় ঝোঁক উঠল টারজানের মতো সেই শিউলি গাছের লতা ধরে পাঠাগারের দোতলার ছাদে উঠবো। যেই ভাবা, সেই কাজ। গাছের লতা ধরে উঠতে শুরু করলাম। আমার দেখাদেখি আরো তিন চার জন সহাপাঠী উঠতে শুরু করল।
এক তলার ছাদ বরাবর উঠতে না উঠতেই হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমাদের হেড স্যার স্কুলের বারান্দায় বসে ওযু করছেন। তিনি স্কুলের মধ্যে সবচেয়ে রাগী স্যার। তাকে আমরা যমের মতো ভয় করতাম। তাকে ভয় করার কারণ তার ইয়া মোটা কালো শরীর ও তার মতই মোটা কালো একটা ডান্ডা।
যাইহোক, হেড স্যারকে দেখেই আমি পড়িমড়ি করে গাছ থেকে নেমে এলাম। স্যার আবার এদিকেই তাকিয়ে ছিলেন। ভাবলাম স্যার আমাকে দেখে ফেলেছেন। আমি ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে স্যারের দিকে চেয়ে থাকলাম।
এর মধ্যেই অন্যরাও যে গাছ থেকে নেমে পড়েছে সেটাও দেখার সময় নেই। সবাই নামার পর স্যার ডাক হাঁকলেন তার বাজখাই গলায়, 'ঐ তুই এদিকে আয়।'
কথায় বলে চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আমিই আবার প্রথমে বললাম, 'আমি, স্যার?'
স্যার আমাকে অবাক করে বললেন, 'না, তুই না। তুই, তুই, আর তুই। তোরা তিন জন এদিকে আয়।'
তারপর আমার পরে যারা গাছের লতা ধরে উঠেছিল তাদের মধ্যে তিনজনকে কাছে ডেকে তার বিখ্যাত সেই কালো মোটা রুলার দিয়ে আচ্ছামত পিটালেন আর তওবা করালেন আর কখনও কেউ ঐ গাছে উঠবি না।
অনেক দিন আগেই সেই হেডস্যার গত হয়েছেন (আল্লাহ্ তাঁকে বেহেস্ত নসিব করুন)। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি ভেবে পাইনি সেদিন কেন স্যার আমাকে না মেরে যারা আমার দেখাদেখি পরে উঠেছিল তাদের মেরেছিলেন।
এই কৌতুকটি পাঠিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন, চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে।
একদিন টিফিন পিরিয়ডে সেখানে খেলতে খেলতে আমার মাথায় ঝোঁক উঠল টারজানের মতো সেই শিউলি গাছের লতা ধরে পাঠাগারের দোতলার ছাদে উঠবো। যেই ভাবা, সেই কাজ। গাছের লতা ধরে উঠতে শুরু করলাম। আমার দেখাদেখি আরো তিন চার জন সহাপাঠী উঠতে শুরু করল।
এক তলার ছাদ বরাবর উঠতে না উঠতেই হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমাদের হেড স্যার স্কুলের বারান্দায় বসে ওযু করছেন। তিনি স্কুলের মধ্যে সবচেয়ে রাগী স্যার। তাকে আমরা যমের মতো ভয় করতাম। তাকে ভয় করার কারণ তার ইয়া মোটা কালো শরীর ও তার মতই মোটা কালো একটা ডান্ডা।
যাইহোক, হেড স্যারকে দেখেই আমি পড়িমড়ি করে গাছ থেকে নেমে এলাম। স্যার আবার এদিকেই তাকিয়ে ছিলেন। ভাবলাম স্যার আমাকে দেখে ফেলেছেন। আমি ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে স্যারের দিকে চেয়ে থাকলাম।
এর মধ্যেই অন্যরাও যে গাছ থেকে নেমে পড়েছে সেটাও দেখার সময় নেই। সবাই নামার পর স্যার ডাক হাঁকলেন তার বাজখাই গলায়, 'ঐ তুই এদিকে আয়।'
কথায় বলে চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আমিই আবার প্রথমে বললাম, 'আমি, স্যার?'
স্যার আমাকে অবাক করে বললেন, 'না, তুই না। তুই, তুই, আর তুই। তোরা তিন জন এদিকে আয়।'
তারপর আমার পরে যারা গাছের লতা ধরে উঠেছিল তাদের মধ্যে তিনজনকে কাছে ডেকে তার বিখ্যাত সেই কালো মোটা রুলার দিয়ে আচ্ছামত পিটালেন আর তওবা করালেন আর কখনও কেউ ঐ গাছে উঠবি না।
অনেক দিন আগেই সেই হেডস্যার গত হয়েছেন (আল্লাহ্ তাঁকে বেহেস্ত নসিব করুন)। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি ভেবে পাইনি সেদিন কেন স্যার আমাকে না মেরে যারা আমার দেখাদেখি পরে উঠেছিল তাদের মেরেছিলেন।
এই কৌতুকটি পাঠিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন, চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন