পাঠকবৃন্দ, ছেলেবেলায় শোনা সেই কাঠুরিয়ার গল্পটা মনে আছে? এই কৌতুকটা সেই কাঠুরিয়াকে নিয়ে। সেই গল্পটার আসলে দুটি অংশ - প্রথম অংশটা আমরা সবাই ছেলেবেলায় পড়েছি বা শুনেছি। কিন্তু পরের মজার অংশটা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই আসুন এবার পুরো গল্পটাই প্রথম থেকে আরেকবার পড়ি।
এক
বনের ধারে বাস করতো এক কাঠুরিয়া। সে বনে কাঠ কাটতো আর সেই কাঠ বাজারে বিক্রি করে
সংসার চালাত।
সেই
বনে এক পুকুর ছিল। কাঠুরিয়া কাঠ কেটে প্রতি দিন সেই পুকুরে গোসল করে বাসায়
ফিরতো। একদিন গোসল করার সময় তার কুঠারটা সেই পুকুরে পড়ে গেল। সে অনেক খুঁজলো
কিন্তু পেলনা। অবশেষে মনের দুঃখে সে পুকুর পাড়ে বসে কাঁদতে লাগলো।
সন্ধ্যা
ঘনিয়ে আসলে, জলদেবী পুকুর থেকে উঠে এল। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করল, কিহে বৎস তুমি
কাঁদছো কেন?
কাঠুরিয়াঃ আজ্ঞে
জলদেবী, আমি যে কুঠার দিয়ে কাঠ কেটে সংসার চালাই সেটা এই পুকুরে পরে গেছে। এখন
আমার বউ বাচ্চাদের কি খাওয়াবো বলুন?
জলদেবীঃ
ওহ, এই ব্যাপার! ঠিক আছে। এই নাও তোমাকে একটা রুপার কুঠার দিলাম। আশা করি এটাতে
তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
কাঠুরিয়াঃ
আজ্ঞে জলদেবী, আমি রুপার কুঠার চাই না। আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সেই লোহার কুঠারটাই
চাই।
জলদেবীঃ
ঠিক আছে। এই নাও তোমাকে একটা সোনার কুঠার দিলাম।
কাঠুরিয়াঃ
আজ্ঞে জলদেবী, আমি সোনা-রুপা কোনটাই চাই না। আমি আমার সেই হারিয়ে যাওয়া লোহার
কুঠারটাই চাই।
জলদেবী
তার সততায় মুগ্ধ হয়ে বলল, তুমি এত সৎ, এত ভাল। ঠিক আছে। তোমাকে সোনা, রুপা আর
লোহার তিনটা কুঠারই দিয়ে দিলাম।
কাঠুরিয়া
এবার খুব খুশি হয়ে সোনা, রুপা আর লোহার তিনটা কুঠার ঘাড়ে করে বাড়ি ফিরল।
এ
পর্যন্ত আমরা সবাই জানি। এবার আসুন পড়ের অংশটা পড়ি।
কাঠুরিয়া
বাড়ি ফেরার পর, তার স্ত্রী শুনতে চাইলে সে সব ঘটনা খুলে বলল। তখন তার স্ত্রী বায়না
ধরল, সে ঐ পুকুরটা দেখবে।
আসলে
তার স্ত্রী মনে মনে ভাবল সেই পুকুরের তলদেশে আরো সোনা-রুপা আছে। যদি খুঁজে-টুজে
আরো সোনা-রুপা পাওয়া যায়!
অগত্যা
একদিন কাঠুরিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে গেল সেই পুকুরের ধারে। স্ত্রীকে সেখানে রেখে
কাঠুরিয়া চলে গেল বনে কাঠ কাটতে।
লোভে
পাপ, পাপে মৃত্যু। আর কথায় আছে মেয়ে মানুষের লোভ বেশি। যাই হোক, ফিরে এসে
দেখে তার স্ত্রী পুকুরে ডুবে মরে গেছে। কাঠুরিয়া তখন আবার পুকুর পারে বসে কাঁদতে
লাগল।
জলদেবী
আবার হাজির। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করল, কিহে বৎস তুমি আবার কাঁদছো কেন?
কাঠুরিয়াঃ
আজ্ঞে আমার স্ত্রী এ পুকুরে ডুবে মারা গেছে।
জলদেবীঃ
'ও এই ব্যাপার? ঠিক আছে এই নাও' বলে তাকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে দিয়ে দিল। আর
প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে পেয়েই কাঠুরিয়া বগল দাবা করে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির পথে
হাঁটা ধরল।
কাঠুরিয়ার
কর্মকান্ড দেখে জলদেবী যেমন আশ্চর্য হল তেমন রাগও করল। তাই কাঠুরিয়াকে ডেকে বলল,
কি ব্যাপার এর আগের বার তোমাকে অনেক সৎ, চরিত্রবান ভেবেছিলাম। কিন্তু আসলে তুমি তো
খুব খারপা মানুষ। তোমার স্ত্রী মারা গেল আর তার বদলে প্রিয়াঙ্কা
চোপড়াকে পেয়েই তুমি তোমার নিজ স্ত্রীর কথা ভুলে গেলে? তোমার স্ত্রীর প্রতি তোমার
কোনই ভালবাসা নেই? মায়া নেই?
কাঠুরিয়াঃ
আজ্ঞে, এর আগের বার যখন আমার কুঠার হারিয়ে গেছিল তখন আমাকে প্রথমে রুপার কুঠার,
তারপর সোনার কুঠার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনটাই নিইনি। তখন খুশি হয়ে আপনি
আমাকে সোনা, রুপা, লোহার তিনটা কুঠারই দিয়ে দিয়েছিলেন। এবার যদি আমি প্রথমে
প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে না নিতে চাইতাম তখন আপনি ঐশ্বরিয়া রায়কে দিতে চাইতেন। যদি
ঐশ্বরিয়া রায়কেও নিত না চাইতাম তখন আমার সততায় খুশি হয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া,
ঐশ্বরিয়া রায় সহ আমার আসল স্ত্রীকেও ফিরিয়ে দিতে। আজ্ঞে জলদেবী, এক স্ত্রীর
জ্বালায় বাঁচিনা, তিনটা স্ত্রীর জ্বালা কিভাবে সহ্য করবো? তাই তরিঘড়ি করে একটাকে
নিয়ে নেয়াই ভাল।
জলদেবী
বেহুঁস হইতে পারিলেন না; শুধুই একটু মুচকি হাসি দিলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন