বাংলার বেঈমান, মীর জাফর আলি খান তখন বাংলার নবাব। তিনি একবার কোথাও যাবার পথে সন্ধ্যা বেলায় জনৈক হিন্দু মহারাজার রাজ্যে রাজকীয় দলবল নিয়ে তাঁবু ফেললেন।
একটু পরেই নবাব তাঁবুর পাশে একটা মাঠে একটা বেশ রিষ্টপুষ্ট গরুকে চড়ে বেড়াতে দেখলেন। গরুটাকে দেখেই নবাবের জ্বিবে পানি এল। তার মনে হল, এমন স্বাস্থ্যবান গরুর গোস্ত খেতে খুব মজা হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি ঐ গরুটা ধরে আনতে হুকুম করলেন।
পরের দিন গরুটা জবেহ করা হবে। এ খবর সেই হিন্দু মহারাজার কানে গেল। এতে মহারাজা একই সাথে খুব দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কারণ গরুটা সাধারণ গরু না। এটা তার বাবার মৃত্যুর পর তার আত্মার মুক্তির জন্য ধর্মের নামে উৎসর্গ করেছেন। এখন সেটা যদি জবেহ করে কেউ খেয়ে ফেলে তাহলে তার বাবার আত্মার মুক্তি হবে না। আবার নবাবকে কিছু বলারও তার সাহস হচ্ছে না।
এসময় গোপাল ভাঁড় গেল মহারাজার প্রাসাদে। গিয়ে দেখলেন, মহারাজার খুব মন খারাপ। কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে ঘটনা খুলে বলা হল।
গোপাল ভাঁড় সব শুনে বলল, এই কথা? মহারাজ, দুঃশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আমি এখনই গিয়ে নবাবের কবল থেকে আপনার গরু ছাড়িয়ে নিয়ে আসছি।
গোপাল
ভাঁড়ের কথা শুনে মহারাজার
মনে আশা-নিরাশার ঢেউ
বয়ে গেল। তিনি বললেন, গোপাল
ভাঁড় তুমি পারবে? নবাব
কিন্তু খুব বদমেজাজী লোক।
তিনি রেগে গেলে তার
পরিণতি খুব খারাপ হতে
পারে।
গোপাল
ভাঁড় বলল, আজ্ঞে, চিন্তা
করবেন না। সবকিছু আমার উপর
ছেড়ে দেন।
এই বলে গোপাল ভাঁড়
রাতেই রওনা হল নবাবের
নিকট।
নবাবের সামনে গিয়ে গোপাল
ভাঁড় কুর্নিশ করে বলল, জাঁহাপনা,
গুস্তাখি মাফ করবেন। আমি
আপনাকে অনেক ভালবাসি।
নবাবঃ
হেয়ালিপনা বন্ধ কর। কী
চাই তোমার? তাড়াতাড়ি বল।
গোপাল
ভাঁড়ঃ তাহলে সরাসরিই বলি।
জাঁহাপনা, আপনি যে গরুটা
আগামীকাল সকালে জবেহ করে
খাওয়ার জন্য ধরেছেন সেটা
ছেড়ে দেয়ায় আপনার জন্য
মঙ্গল হবে।
নবাবঃ
তোমার সাহসের তো তারিফ
করতে হয়। তুমি কি ভেবেছো
তোমার কথায় আমি আমার
সিদ্ধান্ত বদলাবো?
গোপাল
ভাঁড়ঃ জাঁহাপনা, আবারো গুস্তাখি মাফ
করবেন।
আমি বলছিলাম কি। আপনি এ এলাকায়
নতুন।
আপনি জানেন না যে
গরুটা খুবই নোংরা। সে
এখানকার রাস্তা ঘাটের ময়লা,
আবর্জনা, ড্রেনের পানি ইত্যাদি সব
নোংরা খাবার খায়। এজন্যই
ঘৃণা করে কোন মুসলমানও
এখন পর্যন্ত তাকে জবেহ করে
খায়নি।
এটা খেলে নিশ্চিত আপনার
বদহজম হবে। আমি জেনে শুনে
আপনার ক্ষতি হতে দিতে
চাইনা।
হুজুর
এখন আপনি বলেন, আপনার
মত এত বড় নবাব
এরকম নোংরা গরুর গোস্ত
খাবে? এটা কিছুতেই হতে
পারে না; তাই খবর
শুনেই আমি আপনাকে সতর্ক
করার জন্য হন্তদন্ত হয়ে
ছুটে এলাম।
নবাব মীর জাফর আলি
খান নিরাশ হয়ে তখনই
গরুটা ছেড়ে দেয়ার আদেশ
দিলেন।
গোপাল
ভাঁড় সকালেই গরুটা নিয়ে
মহারাজার দরবারে হাজির হয়ে
সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।
শুনে দরবারের সবাই হাসতে হাসতে
অস্থির।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন